কেবল সনদ নয়, বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করছে সরকার। তেজগাঁও কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার ঢাকার তেজগাঁও কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার এখন কেবল ডিগ্রিধারী নয়, বরং দক্ষ, নৈতিক এবং কর্মসংস্থান-উপযোগী নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। অতীতের সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে এখন কর্মমুখী ও বাস্তবসম্মত শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এই বাস্তবতা পরিবর্তনের জন্য শুধু পরীক্ষায় পাস করানো বা ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং প্রকৃত শেখা ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং অপরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের কারণে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি পাওয়ার পরও কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। সরকার এখন সেই অচলাবস্থা নিরসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এমন সব বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছে, যেখানে চাকরির বাজারে চাহিদা খুবই কম। এই বৈষম্য দূর করতে প্রতিমন্ত্রী ক্যারিয়ারভিত্তিক এবং দক্ষতাকেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। এছাড়া একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ, সততা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামীমা ইয়াসমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মো. মোখলেস উর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও নবীন শিক্ষার্থীরা। সরকারের এই নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: রাজধানী সংবাদ প্রতিবেদন।