শারদীয় শুভেচ্ছা জানানো, অমুসলিমদের পূজায় উপহার দেওয়া বা অংশ নেওয়া নিয়ে ইসলামের শরিয়তি বিধান জানুন। মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমির ফতোয়ার আলোকের ব্যাখ্যা।
শারদীয় দুর্গোৎসব বা অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অমুসলিমদের শুভেচ্ছা জানানো, তাঁদের উৎসবে যোগ দেওয়া কিংবা উপঢৌকন বা উপহার বিনিময় করা নিয়ে প্রায়শই সাধারণ মুসলমানদের মনে নানান প্রশ্ন দেখা যায়। ইসলামিক শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে অমুসলিমদের উৎসবভিত্তিক আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও কঠোর সতর্কবার্তা তুলে ধরেছেন প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামিক স্কলারগণ।
রাজধানীর উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ইবনুল কাইয়্যেম এবং শায়খ ইবনে উছাইমীনের ব্যাখ্যার আলোকে এই বিষয়ে শরিয়তের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ফতোয়া অনুযায়ী, অন্য ধর্মের মূল বিশ্বাস ও উপাসনার সাথে জড়িত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অভিনন্দন বা শুভেচ্ছা জানানো ইসলামী বিধানে নিষিদ্ধ ও 'হারাম'। কারণ কোনো বিশেষ ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে কাউকে অভিবাদন জানানো বা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো প্রকারান্তরে ওই ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিরকি আচারকে সমর্থন ও স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল বলে বিবেচিত হয়।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের একাধিক নির্দেশনার উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা যুমারের ৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের কুফরি বা অবিশ্বাসের কাজ পছন্দ করেন না। আবার সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে কেবল ইসলামকেই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করার কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই অমুসলিমরা যদি মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানায়, সে ক্ষেত্রেও শরিয়তের দৃষ্টিতে সেই কুফরি উৎসবের শুভকামনায় ইতিবাচক সাড়া বা উত্তর না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে, কারণ তা মুসলমানদের নিজস্ব উৎসবের অংশ নয়।
ফতোয়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সশরীরে অংশ নেওয়া, তাঁদের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা, উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ আয়োজন, উপহার আদান-প্রদান, মিষ্টান্ন বিতরণ কিংবা ছুটি উদযাপনের মতো কর্মকাণ্ড থেকেও মুসলমানদের সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত। কারণ ফতোয়াতত্ত্ববিদদের মতে, উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করা কেবল শুভেচ্ছা জানানোর চেয়েও বেশি গুরুতর অপরাধ।
বিখ্যাত হাদিস শরীফে উল্লেখ রয়েছে "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।" সৌজন্যবোধ, সামাজিক মেলবন্ধন বা সংকোচের অজুহাতেও কোনো মুসলমান অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিলে তা নিষিদ্ধ বা হারাম কাজের মূল বিধানকে পরিবর্তন করে না বলে ইসলামিক স্কলারগণ মত দিয়েছেন।