জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তোফায়েল আহমেদকে পদ দেওয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বুধবার (৮ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ৬৮ সদস্যের যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তোফায়েল আহমেদের নাম আসায় এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ অতীতে আইন অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নতুন ঘোষিত এই কমিটিতে হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং মারুফ হাসানকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটির ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ নেতাকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, তোফায়েল আহমেদ এতদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেই তিনি কৌশলে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
শুধু পদ পাওয়া নয়, তোফায়েলের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আইন ও বিচার বিভাগের মো. মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, তোফায়েল তাকে মামলা করার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন তোফায়েল আহমেদ। তার দাবি, বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাব ও ক্যাম্পাসের বাস্তবতার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে গোপনে ও প্রকাশ্যে যুক্ত ছিলেন এবং এর স্বপক্ষে তার কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
এই বিতর্কিত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব জানিয়েছেন, তোফায়েল আহমেদ জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলেই তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, যদি পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সক্রিয় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন এবং বিরোধী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনে যোগ দেওয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ছাত্রদল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এমন স্পর্শকাতর সময়ে রাজনৈতিক দলের কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?