ইয়েমেনের লাহিজ প্রদেশে হুথিদের সঙ্গে লড়াইয়ে ৮ সেনা এবং তাইজে গোলাবর্ষণে ৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশে হুথিদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইয়েমেন সরকারের অন্তত আট জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতিবেশী তাইজ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের তীব্র গোলাবর্ষণের মুখে পড়ে দুই নারীসহ তিনজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন সাধারণ মানুষ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে লাহিজে আট সেনা নিহত হওয়ার আনুষ্ঠানিক খবর জানানো হয়। সরকারি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘তুর আল-বাহাহ’ সামরিক অক্ষের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত আল-মাকাতিরাহ ফ্রন্টে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তবে এই সংঘর্ষ ও সেনা নিহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে একই দিন শনিবার তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় হুথি বিদ্রোহীদের মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় একটি সরকারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বিচার গোলার আঘাতে ঘটনাস্থলেই তিন জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং আরও পাঁচ জন গুরুতর আহত হন।
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছিল। তবে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাকে ওই যুদ্ধবিরতির পর থেকে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে পুনরুদ্ধার ও সহায়তার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতে দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মানবিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।