দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বেরিয়ে গেলে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি ভেঙে পড়বে

০ শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বেরিয়ে গেলে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি ভেঙে পড়বে
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটো থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়, তবে ইউরোপের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় যে গভীর সংকটের সৃষ্টি হবে, তা এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জোটটি সরাসরি বিলুপ্ত না হলেও ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।
  • যদিও তাত্ত্বিকভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতৃত্বে ন্যাটো টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু ওয়াশিংটনের এই বিচ্ছেদ জোটের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
  • বর্তমানে ইউরোপের সদস্য দেশগুলো সামরিক ও নিরাপত্তার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল।

উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জোটটি সরাসরি বিলুপ্ত না হলেও ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। যদিও তাত্ত্বিকভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতৃত্বে ন্যাটো টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু ওয়াশিংটনের এই বিচ্ছেদ জোটের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বর্তমানে ইউরোপের সদস্য দেশগুলো সামরিক ও নিরাপত্তার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং সামরিক পুনরুদ্ধার অভিযানের মতো মহাকাশ-ভিত্তিক প্রযুক্তিগুলোতে ইউরোপ ওয়াশিংটনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকে। এছাড়া সামরিক রসদ সরবরাহ এবং সমন্বিত বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতে মার্কিন সহায়তা ছাড়া ইউরোপ কার্যত পঙ্গু অবস্থায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই জোট থেকে বেরিয়ে যায়, তবে ইউরোপকে সামরিক খাতের এই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে অন্তত এক দশক বা তার চেয়েও বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। শুধুমাত্র মার্কিন সামরিক সক্ষমতার সমকক্ষ হতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো এত দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে না। এর পাশাপাশি ইউরোপের অধিকাংশ দেশের সেনাবাহিনী এখন তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে, যেখানে তারা প্রয়োজনীয় সেনা নিয়োগ বা বর্তমান সৈন্যদের ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না।

তবে এই ধরনের বিপর্যয় বাস্তবে ঘটিয়ে ফেলা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে একতরফাভাবে বা নিজের ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নিতে পারেন না। আইনি কাঠামো অনুযায়ী, ন্যাটো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে হলে মার্কিন সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন অথবা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আইন প্রয়োজন হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অদূর ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ আইনপ্রণেতা এখনও ন্যাটোর প্রতি জোরালো সমর্থন বজায় রেখেছেন।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

গ্যাসের অভাবে ১৬ মাস ধরে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসিক ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা

2

কুড়িগ্রাম পৌরসভার সিইও ফজলে রাব্বী প্রত্যাহার: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ

3

আরএফএল গ্রুপে ‘হেড অব ফ্ল্যাট সেলস’ পদে চাকরির সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত

4

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

5

দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও সঠিক নগর পরিকল্পনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

6

পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের বড় সুখবর

7

‘আমি আওয়ামী লীগার না’,আদালতে পুলিশের হেলমেট ছুড়ে ফেললেন

8

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ২০২৬: জেনে নিন দ্রুত ফল দেখার নিয়ম

9

রাশিয়ার শপিংমলে বিশ্বের প্রথম ইনডোর মাছ ধরার পুকুর

10

৮০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও ৫০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা নিয়ে বাজারে এল ওপ্পো এফ৩৫ সিরিজ