মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরাক সফর করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে পৌঁছেছেন। ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সফরকালে আরাগচি ইরাকের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে কথা রয়েছে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক সফরটি কেবল দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তার আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহও গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নীতিতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বাগদাদের সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাল্টা বোমাবর্ষণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করার জন্য ইরানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা স্মারককেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, মার্কিন হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত লংঘন করা হয়েছে এবং এর পরিণামে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘নরকযন্ত্রণা’ ভোগের হুমকি দিয়েছে। এমতাবস্থায় আরাগচির বাগদাদ সফরকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি শেষ মুহূর্তের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের বিস্তারিত এজেন্ডা প্রকাশ করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি রোধে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রে ইরাক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।