হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা এবং নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সম্পদ খ্যাত স্যাম নিল আর নেই। সোমবার (১৩ জুলাই) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৭৮ বছর বয়সে এই বরেণ্য অভিনেতা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তার এই প্রস্থান ছিল ‘হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিত’, তবে মৃত্যুর সময় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যেই ছিলেন।
স্যাম নিল গত কয়েক বছর ধরে বিরল ও জটিল এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি ক্যান্সারমুক্ত হয়েছেন। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময়ও তিনি ক্যান্সারমুক্ত ছিলেন, যা তার আপনজনদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়। নিউজিল্যান্ডের সেন্ট্রাল ওটাগো অঞ্চলে নিজস্ব আঙুরের বাগান ও খামার নিয়ে তিনি জীবনের একটি বড় অংশ অতিবাহিত করেছেন, যা ছিল তার হলিউড জীবনের বাইরে এক নিরিবিলি আশ্রয়।
সত্তরের দশকে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করা স্যাম নিল পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে কাজ করেছেন। স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’-এ ড. অ্যালান গ্রান্ট চরিত্রটি তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। এছাড়া অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য পিয়ানো’ এবং জনপ্রিয় সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ তার অভিনয় দর্শক হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। ১৯৯১ সালে তিনি ‘অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ উপাধি পান এবং ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ড সরকার তাকে নাইটহুডে ভূষিত করে।
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জীবনকে ভালোবাসতে জানতেন এই অভিনেতা। ২০২৩ সালে তার আত্মজীবনী ‘ডিড আই এভার টেল ইউ দিস?’ প্রকাশ হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না, তবে জীবন থেকে বিদায় নেওয়াটা তার কাছে কিছুটা ‘বিরক্তিকর’ মনে হয় কারণ তার এখনো অনেক কাজ বাকি ছিল। একজন চমৎকার অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ পরিবেশকর্মী এবং শৌখিন উদ্যোক্তা। তার এই প্রস্থান বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।
মন্তব্য করুন