দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধ অবসানের চুক্তিকে তেহরান নিজেদের বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতে, এই সমঝোতা কোনো চাপের ফসল নয়, বরং এটি ইরানের প্রতিরোধ ও কর্তৃত্বের জয়। তিনি চুক্তিটিকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সাথে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপরই ন্যস্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
চুক্তির পরবর্তী কার্যক্রমে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করতে বর্তমানে এই অঞ্চলে সফর করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো দেশই সেখানে টোল বা ফি আদায় করতে পারবে না। অন্যদিকে, ইরান এখনো তাদের অবস্থানে অনড় থেকে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননে শান্তি পুনরুদ্ধারকে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তির একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতের ফলে লেবাননের জনজীবনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এলেও সাধারণ মানুষ আবার নতুন উদ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই চুক্তি নিয়ে কিছু মতভেদ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বিরোধীদের নেই।
সামনের সপ্তাহে পাকিস্তানে এই চুক্তির পরবর্তী টেকনিক্যাল পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আইএইএ (IAEA) পরিদর্শকদের প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিদর্শনের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও ইরান তা সম্পূর্ণ চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছে। বৈশ্বিক এই জটিল সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন