মস্তিষ্কে টিউমারের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশের পথে রওয়ানা হয়েছেন প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন।
মস্তিষ্কে টিউমারের জটিল চিকিৎসা শেষে এক বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ও 'নিরাপদ সড়ক চাই' (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্সকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার পথ ধরেছেন তিনি। অভিনেতার প্রতিষ্ঠান ‘নিরাপদ নিউজ’-এর সংবাদকর্মী সোহাগ এবং নিসচার সহসভাপতি লিটন এরশাদ তার দেশে ফেরার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে জন্মভূমিতে তার এই ফেরা দীর্ঘসময়ের জন্য হচ্ছে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক অবস্থার পুনর্মূল্যায়নের জন্য আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যেই তাকে পুনরায় লন্ডনে ফিরে যেতে হবে। সেখানে ১৫ আগস্ট তার পরবর্তী জরুরি শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এই বরেণ্য অভিনেতাকে এর মধ্যে ৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও কঠিন এই চিকিৎসায় তার শারীরিক গঠনেও পরিবর্তন এসেছে; বিমানবন্দরের একটি ছবিতে তাকে শুভ্র চুল-দাড়িতে হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় দেখা গেছে।
চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিসচার সহসভাপতি লিটন এরশাদ জানান, দীর্ঘ চিকিৎসায় আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে জন্মভূমিতে ফেরার জন্য ইলিয়াস কাঞ্চন ভীষণ ব্যাকুল থাকায় স্বল্প সময়ের জন্যই তাকে দেশে নিয়ে আসার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে তার মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কারণে টিউমারটি পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই তিনি কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঢাকাই চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’-র এই তারকা বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সমাজসেবায় একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।