মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর আওতায় জব্দ করা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হলেও তা প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও তাঁর সহযোগী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জব্দ করা মাছ এতিমখানায় না দিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও তাঁর সহযোগীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে এই জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২৫ কেজি ইলিশসহ অন্যান্য মাছ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাছগুলো রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী খেয়াঘাট সংলগ্ন তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে মাছ বিতরণের পরপরই প্রশাসন জানতে পারে, একটি মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দকৃত ইলিশ প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে ব্যক্তিগত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে রাত ৯টার দিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযান চলাকালে ‘মোহাম্মদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহকে (২৭) ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি মাছ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। একই সাথে জানা যায়, মাদ্রাসাটি মূলত আবাসিক কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।
নিবিড় জিজ্ঞাসাসাবাদে শিক্ষক আব্দুল্লাহ জানান, তিনি ও আবুল হোসেন (৫৫) মিলে মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ করা ইলিশ মাছগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে অভিযানে বাকি দুটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সরকারি মাছ সঠিকভাবে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, এতিমখানা ও মাদ্রাসার জন্য দেওয়া মাছ প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করায় মো. আব্দুল্লাহ ও আবুল হোসেন নামের দুজনকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।