গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হলেও প্রকল্প চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ।
ঢাকা-গাজীপুর রুটে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প দ্রুত চালু করার জোর দাবি জানিয়েছে গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ। প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরও এটিকে চালু না করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া এবং অবকাঠামো ভেঙে ফেলার মতো আলোচনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেন যে, কোনো অবস্থাতেই এই বিশাল সরকারি বিনিয়োগ নষ্ট করা কিংবা প্রকল্প বাতিল করা সাধারণ জনগণ মেনে নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া গাজীপুরের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গাজীপুর দেশের প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে তীব্র যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। বিআরটি চালু হলে মাত্র ২০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা এলাকার আবাসন, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসারে বিপ্লব ঘটাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বক্তব্যে মেট্রোরেলের প্রসঙ্গ টেনে ড. খসরু মিয়া প্রশ্ন তোলেন যে, রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেল পরিচালনায় যেখানে সরকার বার্ষিক প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে প্রস্তুত, সেখানে গাজীপুরের বিআরটি বাস্তবায়নে কেন এত অনীহা ও বিলম্ব করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করার পেছনে কোনো কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, যেমন অকার্যকর বাস ব্যবসায়ী বা ব্যক্তিগত যান পরিচালকদের হাত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিআরটি পরিচালনায় কারিগরি বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থাকলে তা সমাধান করে দ্রুত সার্ভিস শুরু করার ওপর জোর দেন তিনি।
এমতাবস্থায় গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সাত দফা দাবি পেশ করেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে বিআরটি চালুর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা, নির্মিত অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং যেকোনো মূল পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে নিরপেক্ষ কারিগরি ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা। একই সাথে প্রকল্পের দীর্ঘ বিলম্বের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করা এবং রেল ও মেট্রোরেলের সাথে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিকল্প সড়ক হিসেবে সালনা-উত্তরা-দৌড় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণেরও তাগিদ দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।