চালু হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া মেটার এআই এজেন্ট ‘মিউজ’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অ্যামাজন। ব্যবহারকারীর তথ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নতুন এআই এজেন্ট ‘মিউজ’ বাজারে আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ব্যবহারকারীর নির্দেশমতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-মেইল পাঠানো, ভ্রমণের টিকিট কাটা, অনলাইনে শপিং করা থেকে শুরু করে নানা জটিল ডিজিটাল কাজ করার ক্ষমতার কারণে এটি সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী ২৫ লাখেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে এবং অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে পৌঁছেছে। তবে এই ব্যাপক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তীব্র বিতর্ক ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যার জেরে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন তাদের প্ল্যাটফর্মে মিউজের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
অ্যামাজন জানিয়েছে, মিউজ কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার চেষ্টা করে, যা প্ল্যাটফর্মটির গ্রাহক ডেটা ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা গবেষকরা মিউজের ম্যাকওএস অ্যাপে একটি গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। তাদের দাবি, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কম্পিউটারে থাকা ক্ষতিকর বা থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার মিউজের কার্যক্রমে অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
মেটার উদ্ভাবিত স্পার্ক মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মিউজ কেবল সাধারণ চ্যাটবটের মতো উত্তরই দেয় না, বরং একাধিক ধাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। ইনবক্স গোছানো, ফরম পূরণ, রেসিপি থেকে মুদির তালিকা তৈরি কিংবা অনলাইনে কেনাকাটার মতো কাজে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে অ্যামাজনে মিউজ দিয়ে পণ্য কেনার চেষ্টা করলে বর্তমানে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিউজ একটি ‘অননুমোদিত এআই এজেন্ট’ এবং এর মাধ্যমে অ্যামাজনে প্রবেশ প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘন করে।
অ্যামাজনের প্রধান আপত্তির জায়গা হলো, মেটা এই টুল চালুর আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা অনুমতি নেয়নি। এছাড়া মিউজ ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা এবং অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও অনলাইন প্রাইভেসি সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই অ্যামাজন তাদের ওয়েবসাইটে এই এআই এজেন্টের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে