জন্মের পরই প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে আসছে ‘এক-আইডি’। ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্র একীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দেশের সব নাগরিকের জন্য জন্ম থেকেই একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রচলিত বিভিন্ন কার্ড ও পরিচর্যাপত্রের ঝামেলা দূর করে চালু হতে যাচ্ছে ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা সংক্ষেপে ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের আর আলাদা করে বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই যুগান্তকারী প্রকল্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বাস্তবায়নাধীন ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল মেয়াদী এই প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। বর্তমান নিয়মে শিশুদের জন্মনিবন্ধন এবং ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার বিধান থাকলেও ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থায় বয়সের কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকছে না। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রণীত এই ব্যবস্থার মূল ধারণা হলো,‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য সেবাকে এই একক কাঠামোর আওতায় একীভূত করা হবে।
প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য এই পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ২ ডলার (প্রায় ২৪৬ টাকা) এবং বিতরণ ও সরবরাহে ১ ডলার (প্রায় ১২৩ টাকা)সহ প্রতি কার্ডে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬৯ টাকা। ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশাল প্রকল্পের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকাায়ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন পরিচয়পত্র ও ডাটাবেজের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ (ইন্টারঅপারেবিলিটি) প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তির দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি ও প্রশাসনিক জটিলতা বহুলাংশে কমে আসবে।