|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালি সংকট: মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এক জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রাথমিক ধারণা ছিল যে, ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে। কিন্তু প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতে সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত, সেই জলপথ বন্ধ করে দিয়ে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে আমেরিকার সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা মানেই রাজনৈতিক বা কৌশলগত জয় নিশ্চিত নয়।

খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান প্রণালিটি বিদেশি জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সাফ জানিয়ে দেয় যে মার্কিন বা ইসরায়েলি কোনো জাহাজ এ পথ মাড়ালে তাকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও ড্রোন ঘাঁটিতে আঘাত হানলেও, বাণিজ্য জাহাজে ড্রোন হামলা এবং সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তেহরান। ওয়াশিংটনের বহুমুখী অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধ সত্ত্বেও ইরান নমনীয় হয়নি, বরং প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত হিসেবে অবরোধ প্রত্যাহার, মার্কিন সেনা অপসারণ এবং যুদ্ধক্ষতিপূরণের মতো কঠোর দাবি উত্থাপন করেছে।

এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে খোদ মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়েছে। ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর মতো যুদ্ধজাহাজের নাবিকেরা দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে ডিউটি দিতে গিয়ে খাবার সংকট, দূষিত পানি ও চরম মানসিক ক্লান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে তেহরান ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। সামরিক শক্তি দিয়ে অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান আদায়ে যে ওয়াশিংটন হিমশিম খাচ্ছে, হরমুজ প্রণালির এই স্থবিরতা তারই বড় প্রমাণ।

এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও তাদের নিরাপত্তা কৌশল নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো চীন ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকা এই আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে, হরমুজ সংকট এটিই প্রমাণ করে যে কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায় না, বরং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া দীর্ঘ যুদ্ধ চালালে পরাশক্তিগুলোকেও বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা ও চাপের মুখে পড়তে হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধর: বৈষম্যবিরোধী ছাত

1

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা

2

খেলাপি ঋণ কমাতে সুদ মওকুফের বিশেষ সুযোগ: কারা পাবেন এই সুবিধ

3

একদিকে বিশ্বকাপ উৎসব, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি ফুটবলারকে হত্যার ঘ

4

বিশ্বকাপের নকআউটে সুখবর: চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট স্পেনের লাম

5

লাল কার্ডে ভরাডুবি নাকি ডমিনোজের পিৎজা উৎসব: যুক্তরাষ্ট্রের

6

মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনের

7

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়

8

হরমুজ প্রণালিতে কার প্রভাব বেশি, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র?

9

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নৃত্যকলাসহ ৪ বিষয়

10

‘পদত্যাগ করছেন’ পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম

11

বাংলাদেশে থাকা তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা

12

পুলিশের বিরুদ্ধে গাঁজা বিক্রির সংবাদে দাউদকান্দির আইনশৃঙ্খলা

13

তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার:

14

১২ দলের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৭: বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়নদের সরাস

15

শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান ড

16

পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করছে: ম

17

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ: দেখে

18

অবশেষে অপারেশন Truth Promise 4 শুরু করলো ইরান!!

19

বুয়েটে সরাসরি সাক্ষাৎকারে ৩৩ প্রভাষক নিয়োগ

20