অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে এবং শেখ হাসিনাসহ অপরাধীদের প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারত সফরে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছে এমনটি।
দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুর মাঝে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম গণমাধ্যমকে জানান যে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মুহূর্তে ভারত সফরে যাবেন না এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে প্রয়োজনীয় তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কিছু সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল বিষয়ের সমাধান হওয়া জরুরি বলে মনে করছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিফিংয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আদালতের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে ভারতে পালিয়ে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অবিলম্বে প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইনকিলাবের আহ্বায়ক ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় তাদেরও দ্রুত বাংলাদেশের হাতে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সন্তোষজনক সুরাহা এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থার যথাযথ অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার পরই কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কিংবা উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।