যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা এবং পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজা ইস্যুতে তার নতুন ও কঠোর অবস্থানের কারণে এখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় রোধে বর্তমান লেবার সরকার যথেষ্ট তৎপর ছিল না এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বানে তারা অনেক দেরি করে ফেলেছিল। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বার্নহ্যামের এই সাহসী ঘোষণার পরই ব্রিটিশ ইহুদি সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউজ এবং জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই ধরণের নীতি ইসরায়েলের মতো দীর্ঘদিনের মিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকেও তার সমালোচনা করা হচ্ছে। ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেম প্রীতি প্যাটেল অভিযোগ করেছেন যে, বার্নহ্যাম একদিকে মিত্রদের সন্তুষ্ট করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজের দলের বামপন্থীদের খুশি করার চেষ্টা করছেন।
তবে লেবার পার্টির ভেতরের একটি বড় অংশ তার এই ঘোষণাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। ক্লাইভ লুইস ও অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ডের মতো প্রভাবশালী এমপিরা এটিকে অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন এবং ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেমস মারেও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারের গাজা নীতিতে ঘাটতি ছিল। বার্নহ্যাম অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কঠোর হলেও যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতি—যেমন ন্যাটো বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
প্রায় ৩২২ জন এমপির সমর্থন থাকায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ এখন প্রায় নিশ্চিত। দলীয় সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিক ভোট ছাড়াই তিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। দেশের ভেতরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার যে চ্যালেঞ্জ তার সামনে রয়েছে, তা মোকাবিলা করাই এখন বড় পরীক্ষা। গাজা নীতি নিয়ে তার এই নতুন অবস্থান একদিকে যেমন লেবার পার্টিকে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারায় পরিচালিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনি এটি ব্রিটিশ অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে এক নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন