পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি সরানো নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, পরিবেশ ও প্রকল্পের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পদ্মা রেলসেতুর ভায়াডাক্টের নিচের মাটি সরানো প্রসঙ্গে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, নৌপরিবহণ এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রকল্পের ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী জানান, পিলারের নিচের এই মাটি সরানোর ফলে কাঠামোতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব তো পড়বেই না, বরং এটি পরিবেশ ও প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, মূল নির্মাণকাজ চলাকালীন ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে এই মাটি ভরাট করা হয়েছিল। এখন প্রকল্পের নকশা এবং চুক্তি অনুযায়ী সেই অস্থায়ী মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। এটি রেললাইন বা মূল অবকাঠামোর জন্য মোটেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বরং পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪২ কিলোমিটার অংশের মাটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি থাকা ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এলাকা থেকেও গড়ে সাড়ে তিন ফুট মাটি অপসারণের কাজ চলমান। এই কাজের মাধ্যমে মূলত প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই মূল উদ্দেশ্য। মন্ত্রী পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুরো রেলসেতু কাঠামোটি প্রকৌশলগত দিক থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করছে। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।