এক সময় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্নের নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করার পর প্রশ্ন উঠছে জাতীয় দলের জন্য তিনি এখনো কি বড় সম্পদ, নাকি ধীরে ধীরে বোঝায় পরিণত হচ্ছেন? ম্যাচটিতে বলের দখল ও আক্রমণ তৈরিতে পর্তুগালের আধিপত্য থাকলেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে তারা ছিল চরম অকার্যকর, যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অধিনায়ক রোনালদোর নিস্তেজ পারফরম্যান্সকে দায়ী করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল এই গোলদাতার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব তরুণদের জন্য প্রেরণা হলেও, সময়ের সাথে সাথে তাঁর চেনা ছন্দ হারিয়ে যাওয়া এবং বড় টুর্নামেন্টে দীর্ঘস্থায়ী গোলখরা পর্তুগাল দলকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়লেও পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল ইউরোপের এই দলটিরই। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিখুঁত পাস আদান-প্রদান এবং একের পর এক আক্রমণ তৈরিতে পর্তুগিজ ফুটবলাররা যথেষ্ট সক্রিয় থাকলেও প্রতিপক্ষের গোললাইনের সামনে গিয়ে তারা চূড়ান্তভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আর আক্রমণভাগের এই সামগ্রিক ব্যর্থতার পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে ফুটবল বিশ্লেষক ও ভক্তদের সামনে উঠে এসেছে দলের প্রধান তারকা রোনালদোর অত্যন্ত নিষ্প্রভ ও নিস্তেজ পারফরম্যান্স।
খুব স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল অঙ্গনে দলের সবচেয়ে সফল এবং বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়ের দিকেই সবার বাড়তি নজর ও প্রত্যাশা থাকে। এক্ষেত্রে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে বড় মহাতারকা হিসেবে একজনের নাম যদি বেছে নিতে হয়, তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামই সবার আগে আসবে। কিন্তু সেই কিংবদন্তি ফুটবলারই সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আশানুরূপ বা উল্লেখযোগ্য কোনো পারফরম্যান্স উপহার দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছেন, যা দলকেও বড় টুর্নামেন্টের শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন