
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো একটি নতুন এবং জরুরি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেশ করেছে। পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের যৌথ প্রচেষ্টায় উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি মূলত দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' এবং 'ফার্স্ট পোস্ট'-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে একটি ৪৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপ: ৪৫ দিনের জন্য সকল প্রকার সামরিক হামলা স্থগিত রাখা।
দ্বিতীয় ধাপ: স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ এবং বিতর্কিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি কঠোর আলটিমেটাম দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে রাজি না হয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ (Power Plant Day) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান চললেও দুই পক্ষের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট বিদ্যমান।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: তারা চায় ইরান আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে বিশ্বস্ততার প্রমাণ দিক।
ইরানের অবস্থান: তারা গাজা বা লেবাননের মতো সাময়িক কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না। স্থায়ী নিশ্চয়তা এবং মার্কিন বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ ছাড়া কোনো চুক্তিতে যেতে তারা আগ্রহী নয়।