
চীনের সাংহাইয়ে এক তরুণীর তার পোষা কুকুরের জন্য নেওয়া এক ব্যতিক্রমী ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া 'তাওতাও' ছদ্মনামের ওই নারী তার ছয় মাস বয়সী সামোয়েড জাতের কুকুরছানাকে একটি বিশেষায়িত কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করেছেন। কাজের ব্যস্ততার কারণে প্রিয় পোষ্যকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই বিশেষ সেবার জন্য তাওতাওকে প্রতি মাসে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ টাকারও বেশি। এই মোটা অঙ্কের ফির বিনিময়ে তার কুকুরটি উন্নতমানের আচরণগত প্রশিক্ষণ, সামাজিকীকরণ কার্যক্রম এবং প্রতিদিন স্কুল বাসে যাতায়াতের সুবিধা পায়। ভর্তির শুরুতেই কুকুরটির ব্যক্তিত্ব ও মেজাজ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় তার প্রশিক্ষণের ধরন, যাতে সেটি অকারণে ঘেউ ঘেউ করা বা আগ্রাসী আচরণের মতো সমস্যা থেকে মুক্ত থাকে। এছাড়া মালিক চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে সারাদিন তার পোষা প্রাণীর কর্মকাণ্ড সরাসরি তদারকি করার সুযোগ পান।
সাংহাইয়ের এই বিশেষায়িত স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেন জানান, বর্তমানে এ ধরনের পরিষেবার চাহিদা আকাশচুম্বী। অনেক ক্ষেত্রে একটি সিট পেতে মালিকদের কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। চায়না পেট ইন্ডাস্ট্রি হোয়াইট পেপার-২০২৬-এর তথ্যমতে, দেশটিতে পোষা প্রাণীকেন্দ্রিক শিল্পের বাজার বর্তমানে অত্যন্ত চাঙ্গা। গত বছর শহুরে পোষা প্রাণী শিল্পের বাজার প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সাল নাগাদ এর আকার ৪০ হাজার ৫০০ কোটি ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে। মূলত একাকিত্ব দূর করতে এবং আধুনিক জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে অনেকেই এখন পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।