
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সমবেদনা জানান। সচিব স্বীকার করেন যে, চিকিৎসা সেবায় কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে সরকার বর্তমানে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে জোরালোভাবে কাজ করছে।
সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, হামসহ ১০ ধরনের জীবনরক্ষাকারী টিকা সংগ্রহের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সেই অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুতই এই টিকা দেশে পৌঁছাবে এবং পৌঁছানোর পরপরই সারাদেশে বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে। করোনা মহামারিকালীন টিকাদানে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সচিব বলেন, ১২০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় সেবাদানে বিঘ্ন ঘটছে। এই চাপ কমাতে রাজশাহীতে নবনির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত নয় এমন জটিল রোগীদের বিকল্প হাসপাতালে স্থানান্তর এবং আইসোলেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও জনবল সংকট মেটাতেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সচিব জানান, সংকট মোকাবিলায় হাসপাতালে নতুন ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।