
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস বা 'ব্লেন্ডিং সিস্টেম' চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেশন জট ও পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস চালু রাখার কথা ভাবা হচ্ছে, যার মধ্যে কয়েকদিন সশরীরে এবং বাকি দিনগুলো অনলাইনে সম্পন্ন হতে পারে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকার স্কুলগুলোতে যাতায়াত ও বিদ্যুতের চাপ কমাতে এই অনলাইন পদ্ধতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে সবুজ সংকেত পেলেই এটি কার্যকর হবে। সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইনের পক্ষে মত দিলেও শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণের কথা মাথায় রেখে পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে না গিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সশরীরে ও অনলাইন এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর মাধ্যমে মূলত বিশ্ববাজারের তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে পড়াশোনাকে সচল রাখতেই এই আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
এছাড়া ট্রাফিক জট নিরসন ও জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুলগুলোর জন্য ইলেকট্রিক, ব্যাটারি বা সোলার এনার্জি চালিত নতুন 'বাস সিস্টেম' প্রবর্তনের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, মেট্রোপলিটন এলাকার স্কুলের ক্ষেত্রে আপাতত এ বিষয়টি বেশি কার্যকর হবে বলে ভাবা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবের যে অংশটি গৃহীত হবে, সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং দ্রুতই তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।