
জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার খবর দিয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী পারশা মাহজাবিন। তবে বিয়ের খবর প্রকাশ করলেও জীবনসঙ্গীর নাম ও পরিচয় আপাতত আড়ালেই রাখতে চান এই শিল্পী। শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে তোলা বিশেষ কিছু ছবি প্রকাশ করে তিনি ভক্তদের এই সুখবর জানান।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, বিয়ের সাজে বরের মুখটি ফুল দিয়ে সুন্দরভাবে ঢেকে রেখেছেন পারশা। মজার ছলে সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “বেগানা নারীদের কুদৃষ্টি থেকে হেফাজতের স্বার্থে বরের চেহারা গোপন রাখা হলো। ব্যাটামানুষের রূপ-লাবণ্য ও যৌবন জনসমক্ষে প্রদর্শন করে সমাজে ফিতনা ছড়ানোর পক্ষপাতী নই। অতএব, বরের পরিচয় জানতে চেয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে বিব্রত করবেন না।”
পারশা জানান, গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে তাঁদের আক্দ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে সেই অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারেননি, যদিও বরের পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি রয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে জমকালো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
স্বামীর পরিচয় গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে এই গায়িকা বলেন, “আমি যদি নাম বলি, তাহলে সবাই তাকে চিনে ফেলবে। তাই আপাতত বলতে চাইছি না। আর পরিচয়টা সামনে আনতে চাই না বলেই ছবিতে ফুল দিয়ে মুখটা ঢেকে রেখেছি। আমি তাকে ‘প্রিয়’ বলে ডাকি, সেও আমাকে ‘প্রিয়’ বলে।”
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে পারশা জানান, প্রায় এক বছর আগে দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে কথাবার্তা শুরু হলে একপর্যায়ে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানান তিনি এবং পরিবারের তরফ থেকেও এতে পূর্ণ সম্মতি ছিল। জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার আদর ও সুরক্ষায় বড় হয়েছেন তিনি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই নির্ভরতা ও স্বাধীনতাই মূলত জীবনসঙ্গী নির্বাচনে তাঁর মানদণ্ড তৈরি করেছিল।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ গান গেয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা আসেন জেন-জি প্রজন্মের এই শিল্পী। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিয়মিত দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।