
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রচলিত ধারাবাহিকতা ভেঙে নিবন্ধনের পরিবর্তে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরে ‘নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন এই উদ্যোগে পরীক্ষার সিলেবাস, নম্বর বণ্টন এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রার্থীদের মোট ২২০ নম্বরের তিন ধাপে মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ১০০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা। তবে এই পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর করতে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত পরীক্ষার নতুন কাঠামো ও মানবণ্টন:
প্রথম ধাপ (প্রিলিমিনারি): ১ ঘণ্টার ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (বহুনির্বাচনি) পরীক্ষা। যেখানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—প্রতিটি বিষয় থেকে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। এই ধাপে পাস করতে হলে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (লিখিত): প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ৩ ঘণ্টার ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তৃতীয় ধাপ (মৌখিক): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য সর্বশেষ ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ও সময়সীমা: এনটিআরসিএ জানিয়েছে, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে, যা আগামী ৯ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরালো করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ডিসেম্বরে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পরীক্ষার তারিখ, আবেদন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিলেবাস পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালের মার্চে তার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দিন নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি না আসায় চাকরিপ্রার্থীরা অধীর আগ্রহে নতুন এই উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে আছেন।