
ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে বিরোধী জোটের নেতা ও সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে কোনো দল বা জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সমর্থ হয়নি। তবে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো, যা তাকে নতুন সরকার গঠনে ফ্রন্টরানার বা এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসির রোববারের (৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আজ থেকে আগামী ২৮ দিনের মধ্যে আইজেনকোটকে নতুন জোট সরকার গঠন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে।
প্রেসিডেন্টের আদেশের পর ইসরায়েল সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ও বর্তমান রাজনৈতিক দল ‘য়াশার’-এর প্রধান গাদি আইজেনকোট সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লিখেন, “এখন সময় একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের। দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে এবং এটি বাস্তবায়নে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।”
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ যাবৎকালে কোনো একক রাজনৈতিক দল এককভাবে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে প্রতিক্ষেত্রেই একাধিক দল মিলিয়ে জোট সরকার গঠন করতে হয়েছে।
নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর জোট ৫৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিপরীতে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো লাভ করেছে ১৯টি আসন। এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন আইজেনকোটকে শক্ত অবস্থানে বসিয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক আলোচনা ও পরামর্শ শেষে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নিশ্চিত করেছেন, গাদি আইজেনকোটের সমর্থনে ৬৭টি নেসেট সদস্যের অনুমোদন এসেছে, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে প্রস্তাব ছিল মোটে ৪৬টির। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট উভয়কেই অবগত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এ ঘটনাকে নেতানিয়াহু যুগের অবসানের বড় একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
(সূত্র: বিবিসি/