
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ। তিনি ‘হাবিবি’ (Habibi) নামক একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি বা প্যাক (PAC) গঠন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্যাক হলো এমন সব সংগঠন বা সংস্থা, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং ব্যয় করে থাকে। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের (FEC) নথি অনুযায়ী এই ‘হাবিবি প্যাক’টি এল-সায়েদের স্পন্সর করা একটি বিশেষ লিডারশিপ প্যাক, যা তাঁর মূল নির্বাচনী ক্যাম্পেইন থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।
‘হাবিবি’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আমার প্রিয়’ বা ‘আমার প্রিয়জন’। নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে এই শব্দটি বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন এল-সায়েদ। বিশেষ করে গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের পর নিজের বিজয় ভাষণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে উদ্দেশ্য করে ‘হাবিবি’ সম্ভাষণ জানিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এমনকি কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তারা। তবে রিপাবলিকান পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পর এল-সায়েদ তাঁর সেই ভাষণে রসাত্মকভাবে বলেছিলেন, “জেডি, হাবিবি, অত্যন্ত আনন্দের আয়রনি হলো, সাংবিধানিকভাবে আগামী জানুয়ারিতে আমাকে শপথ পড়ানোর জন্য আপনিই বাধ্য।”
মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আব্দুল এল-সায়েদের এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা ‘হাবিবি প্যাক’ মার্কিন রাজনীতিতে আগামী দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।