
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে সরকারি সড়ক দখল করে বেড়া দিয়ে গণচলাচল বন্ধ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী শাহজাহান মিয়া ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ফলে উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের কেয়ারী গ্রামের শতাধিক পরিবারের মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে স্থানীয় প্রায় ৬০০ একর ফসলি জমির ধান ও কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন বোরো মৌসুমে চরম বিপাকে পড়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক কৃষক।
এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার ও রাস্তাটি দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবিতে গ্রামের বাসিন্দাদের পক্ষে অলি মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হাবীব উল্ল্যাহ মনোহরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেয়ারী গ্রামের ৪২২ নম্বর মৌজার বিএস ১১৪ দাগভুক্ত সরকারি শ্রেণিপথের জমি বেআইনিভাবে দখল করে বাঁশের বেড়া ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন শাহজাহান মিয়া ও তার লোকেরা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা কিছুদিন পরপরই খাসজমিটি দখল করে প্রধান চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে স্থানীয় অধিবাসী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগকারী হাবীব উল্ল্যাহ ও স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম ভূঁইয়া জানান, ২০২২ সালে গ্রামবাসীর যৌথ অর্থায়ন ও শ্রম সহযোগিতায় সড়কটি নির্মিত হয়েছিল। এটিই এই অঞ্চলের ৬০০ একর ফসলি জমি থেকে উৎপাদিত ধান ও কৃষি মালামাল আনা-নেওয়ার একমাত্র ব্যবহৃত সড়ক। সামনেই বোরো ধানের চারা রোপণের মৌসুম থাকায় রাস্তাটি দ্রুত উদ্ধার ও চলাচলের উপযোগী না করা হলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ও কৃষিতে বড় ধস নামবে।
তবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত শাহজাহান মিয়ার মোবাইল সংযোগ না পাওয়ায় এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা জানান, কেয়ারী গ্রামের সড়ক দখলের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।