
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ও সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
তবে শুধু সাভারের বোট ক্লাবকাণ্ডই নয়, এর আগেও রাজধানী গুলশান ও বনানীর অভিজাত ক্লাবে পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও হাঙ্গামার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের ৬ জুন সাভারের বোট ক্লাবকাণ্ডের ঠিক দুদিন আগে গুলশানের ঐতিহ্যবাহী ‘অল কমিউনিটি ক্লাবে’ গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এই চিত্রনায়িকা।
সে সময় অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবাল গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, গভীর রাতে ক্লাবে প্রবেশ করে পরীমনি প্রায় ১৫টি কাচের গ্লাস, ৯টি অ্যাশট্রে এবং অসংখ্য হাফপ্লেট ছুড়ে ভেঙে ফেলেন। ঘটনার রাতে তার সঙ্গে এক পুরুষ সঙ্গী ও হাফপ্যান্ট পরিহিতা এক নারীও ছিলেন। ওই বছরের ৭ জুন গভীর রাতে ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
বোট ক্লাবে আসলে কী ঘটেছিল? ২০২১ সালের ৯ জুন মধ্যরাতে সাভারের বোট ক্লাবের ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলন ও ফেসবুকে পরীমনি দাবি করেছিলেন, সেদিন রাতে তাকে জোর করে মদপানের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং হেনস্তা করা হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে প্রকাশ পাওয়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, পরীমনি স্বেচ্ছায় তার সহযোগীদের নিয়ে ক্লাবের ভেতরে মদ্যপান করছিলেন। এছাড়া উত্তেজিত পরীমনিকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে তাকে চরম দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়। বর্তমানে এসব পুরোনো ঘটনা ও মামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই চিত্রনায়িকা।