
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা হৃদয় হোসেন (২৭) নামের এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাজের কথা বলে ঘর থেকে বের হলেও তিন দিন পর স্থানীয় একটি বাগানবাড়ির পুকুরে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর বালাসুর ঋষিবাড়ি শ্মশানের পাশে মনা মৃধার বাগানবাড়ির পুকুরে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য: নিহত হৃদয় হোসেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানানী ইউনিয়নের নগরজোয়ার এলাকার (৮ নম্বর ওয়ার্ড) কামাল ভূঁইয়ার ছেলে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
নিহতের স্ত্রী তানহা আক্তার জানান, গত ২৬ অক্টোবর হৃদয় কাজের কথা বলে সিরাজদিখানের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তবে তিনি বালাসুরে তাঁর চাচাতো ভাই পিয়াস ও সিহাবের বাড়িতে যাচ্ছেন এ বিষয়টি স্ত্রীকে জানাননি। গত ২ নভেম্বর বিকেলে হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয় এবং স্ত্রী নগদ অ্যাপে তাঁকে ১ হাজার টাকা পাঠান। ওই দিন রাত থেকেই হৃদয়ের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।
মাদক কারবারের যোগসূত্র ও পুলিশের বক্তব্য: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হৃদয়ের দুই চাচাতো ভাই সিহাব ও পিয়াস এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মৃত্যুর দুই দিন আগে তাদের সঙ্গেই হৃদয়কে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন স্থানীয়রা।
শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, মরদেহের সঙ্গে থাকা মানিব্যাগের পরিচয়পত্র দেখে হৃদয় হোসেনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারের সময় নিহতের পরনে প্রিন্টের হাফ শার্ট ও ট্রাউজার ছিল। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর তা ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা—তার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।