
যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী বেশ কিছু সিনেট আসনে ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে এবং খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রকৃত সীমাবদ্ধতাও স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
ট্রাম্পের একক আধিপত্য ও প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টিকে নিজের মতো করে সাজিয়েছেন ট্রাম্প। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের লড়াইয়ে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে এমন সব অনুগত ও আদর্শগত মিত্রদের প্রাধান্য দিয়েছেন, যাদের স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা পূর্বের নির্বাচনী জয়ের প্রমাণিত রেকর্ড ছিল না। ট্রাম্পের ধারণা ছিল, তাঁর নিজস্ব জনপ্রিয়তার জোর প্রার্থীদের যেকোনো রাজনৈতিক দুর্বলতা ঢেকে দিতে সক্ষম হবে। কিন্তু মঙ্গলবারের নির্বাচনী ফলাফল সেই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত করেছে।
যেসব রাজ্যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে:
সাউথ ক্যারোলিনা: ১৯৯৮ সাল থেকে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা এই রাজ্যে ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী ডারলিন গ্রাহাম ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুসের কাছে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।
টেক্সাস: দলীয় প্রাইমারিতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে অভিজ্ঞ সিনেটর জন করনিনের পরিবর্তে কেলেঙ্কারিতে জড়ানো কেন প্যাক্সটনকে এগিয়ে দেওয়ায় ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম আসনটি হাতছাড়া হয়ে ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেছে।
নর্থ ক্যারোলিনা ও মিশিগান: নর্থ ক্যারোলিনায় মাইকেল হোয়াটলি এবং মিশিগানে মাইক রজার্স শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনা: আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক থমাস কান ও নর্থ ক্যারোলিনার সাবেক গভর্নর প্যাট ম্যাকক্রোরির মতে, দলীয় প্রাইমারিগুলোতে ট্রাম্পের অযাচিত ও অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ দলটিকে ভেতর থেকে মারাত্মকভাবে বিভক্ত করে দিয়েছিল। ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক পুঁজি দলের ভেতরেই ব্যয় করেছেন। তাছাড়া, মূল্যস্ফীতি, শুল্ক নীতি এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব সংকটের চেয়ে নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ায় তৃণমূলের মূল ভোটারদের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহজাত সংযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নির্বাচনের পর ট্রাম্প চড়া ও অনমনীয় সুর প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, তিনি তো ব্যালটে ছিলেন না। তবে হোয়াইট হাউস ও দলীয় মহলের ভেতরের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং তার ভুল কৌশলই রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।