
জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে প্রতিনিয়ত গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন হ্যারি কেইন। তবে এই ইংলিশ অধিনায়কের খেলার ধরন এখন আর কেবল প্রচলিত 'গোলমেশিন' বা বক্সে অবস্থান নেওয়া খাঁটি স্ট্রাইকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দলের আক্রমণভাগ গড়ে তুলতে প্রায়ই তাঁকে নিচে মাঝমাঠে নেমে এসে প্লে-মেকারের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। নিজের খেলার কৌশলে এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের পেছনে সাবেক কোচ জোসে মরিনিওর অবদান সবচেয়ে বেশি বলে স্বীকার করেছেন কেইন।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন বায়ার্নের এই তারকা ফরোয়ার্ড। সেখানে তিনি মরিনিওর অধীন খেলার সময় পাওয়া স্বাধীনতা ও দিকনির্দেশনার কথা স্মরণ করেন।
মরিনিওর হাত ধরে খেলায় নতুন মাত্রা: কোচ মরিনিওর অবদান প্রসঙ্গে কেইন জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যুব দলে তিনি বিভিন্ন পজিশনে খেললেও পরবর্তীতে টটেনহ্যামে যোগ দিয়ে মূলত একজন ‘নম্বর নাইন’ বা চিরাচরিত স্ট্রাইকার হিসেবেই নিজেকে গড়ে তোলেন। তবে ২০১৯ সালে টটেনহ্যামের দায়িত্বে জোসে মরিনিও আসার পর থেকেই তাঁর খেলার ধারা বদলাতে শুরু করে।
কেইনের ভাষায়, “জোসে টটেনহ্যামে আসার পর আমাকে মাঠে দারুণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। নিখুঁত পাস দেওয়ার দক্ষতা সব সময়ই আমার অন্যতম বড় শক্তি ছিল, কিন্তু সবাই আমাকে মূলত একজন গোলদাতা ও বক্সে থাকা খাঁটি স্ট্রাইকার হিসেবেই দেখত। ফলে আমার পাসিং ও খেলা তৈরির সামর্থ্যটি এতদিন কারও খুব একটা চোখে পড়েনি। মরিনিওই প্রথম আমাকে সেই সুযোগটি করে দিয়েছিলেন।”
বায়ার্নে কৌশলের সফল প্রয়োগ: বায়ার্ন মিউনিখের বর্তমান খেলার ধরনেও নিজের এই বহুমুখী দক্ষতার শতভাগ ব্যবহার করতে পারছেন বলে জানান কেইন। তিনি যোগ করেন, “বায়ার্নে আমরা যে কৌশলে খেলি, তা আমার এবং দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমরা কতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে পারি, তা প্রমাণের সুযোগ পাই। শুধু গোল করাই নয়, বরং মাঠে বিভিন্ন ভূমিকায় অবদান রাখার গভীর সামর্থ্য আমার রয়েছে বিষয়টি এখন আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছি।”
টটেনহ্যামে মরিনিওর দেওয়া সেই কৌশলগত ছাড় ও স্বাধীনতাই হ্যারি কেইনকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ‘কমপ্লিট ফরোয়ার্ড’-এ পরিণত করেছে, যা এখন বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বড় সম্পদে পরিণত হয়েছে।