
ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে দর্শকদের অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। বিগত প্রায় তিন বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ইতোমধ্যে সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিও পেয়েছেন। বিশেষ এই দিনে নিজের জন্মদিন উদ্যাপনের পাশাপাশি ওমর সানীর সঙ্গে দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের চড়াই-উতরাই ও সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এই তারকা।
ওমর সানী ও মৌসুমী দম্পতির দীর্ঘ সংসারের পথচলা এবং বিভিন্ন সময়ে ছড়ানো নানা আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, "আমি বিশ্বাস করি আমি যত বড় ও বিখ্যাতই হই না কেন, আমার নিন্দুক থাকবেই। তারা কখনো ভালো বলবে না, তাদের চোখে আমরা সবসময়ই খারাপ। আমি চাই তারা আমার কাজগুলো দেখুক এবং সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করুক, যাতে আমি আরও ভালো করতে পারি। জীবনে নিন্দুক থাকাটাও জরুরি, কারণ তারা অনেক সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।"
হলুদ সাংবাদিকতা ও ভালোবাসার অঙ্গীকার: দীর্ঘ সময়ের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, "আমি আর সানী দুজনে একসাথে যেমন অনেক কাজ করেছি, আলাদাভাবেও করেছি। কাজের সূত্রে সুনাম-দুর্নাম দুটোই এসেছে, তবে ভালোবাসাই বেশি পেয়েছি। এই পথচলায় বিখ্যাত হতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতা ও ট্রোলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে।"
সংসার ভাঙার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "অনেক সময় আমাদের সংসার জীবন নিয়ে বিভিন্ন ভুল তথ্য ও হলুদ সাংবাদিকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা আমরা ঠান্ডা মাথায় সামলেছি। সানী আর আমি কখনো কাউকে কোনো পরিস্থিতিতেই ছেড়ে যাব না—এই মানসিকতা নিয়েই একে অপরের হাত ধরেছিলাম। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতুহল থাকা স্বাভাবিক, তবে আমরা আজীবন একসঙ্গেই থাকব।"
পরিবারই পরম শান্তির জায়গা: এক প্রশ্নের জবাবে মৌসুমী জানান, অভিনয়ের ব্যস্ততম সময়ে কাজের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে নিজের ব্যক্তিগত সুখ ও মানসিক শান্তির সাথে আপস করে কাজ করতে হয়েছে। পরিবারকে ঠিকমতো সময় দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে দিনশেষে সব কাজ শেষ করে পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েই প্রকৃত শান্তি খুঁজে পেয়েছেন বলে জানান এই গুণী অভিনেত্রী।