
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে কড়া অবস্থান নিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, ভারতের ভোটার তালিকায় ৩ কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম রয়েছে। তাদের প্রকৃতপক্ষে কোনো অস্তিত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে বিজেপির আয়োজিত এক মহাপদযাত্রায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন অমিত শাহ। এর আগের দিন দিল্লির রামলীলা ময়দানে এসআইআরের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্য আসে।
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, বাদ পড়া নামগুলোর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ ভোটার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। প্রায় ৩ কোটি ভোটারের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত ছিল। তাঁর দাবি, বাকি ৩ কোটি ভোটারের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেসের উদ্দেশ্য হলো ভুয়া ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভ করা। একই ব্যক্তির নামে দুটি ভোট থাকলে তার একটি বাতিল করা উচিত কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিকেও আক্রমণ করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মিলে যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, বিজেপি প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দেশ থেকেও বিতাড়িত করার ব্যবস্থা করবে।
এসআইআরের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, রাহুল গান্ধীর এমন বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেন অমিত শাহ। তাঁর যুক্তি, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এসআইআর ছাড়াই জয় পেয়েছিল। ২০২৪ সালের পর মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি ও বিহারেও বিজেপি বড় জয় পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা এসআইআর বন্ধ করতে চাইছে, কারণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা তাদের ভোটব্যাংকের অংশ। তবে বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতের নির্বাচনে শুধু দেশটির নাগরিকরাই ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন।