
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর অভিমুখে মিছিল নিয়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার সকালে মিরপুর ২, ১১ ও রূপনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন কারখানা থেকে শ্রমিকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশি বাধায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
পুলিশের কঠোর অবস্থান ও গ্রেপ্তার: সকাল থেকেই মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা জোরদার করতে ওই এলাকায় জলকামান ও প্রিজন ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়। পাশাপাশি মিরপুর ১১, ১৩ ও ১৪ নম্বর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার আশপাশেও কড়া নজরদারি চালানো হয়।
দিনভর মিরপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকা থেকে দুই দফায় মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা ১০ নম্বর গোলচত্বরে যাওয়ার চেষ্টা চালালেও প্রতিবারই পুলিশ তাদের বাধা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, সাধারণ শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সম্মান থাকলেও আন্দোলনের নামে কেউ জনজীবন বিপর্যস্ত কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ তা শক্ত হাতে দমন করবে। বর্তমানে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি সতর্ক অবস্থানের কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।