
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আটলান্টা’। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়ার আগেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে কি না, সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হতে পারে।
যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যখন প্রথম দফা হামলা চালানো হয়েছিল, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলা হয়েছিল যে এই সংঘাত মধ্যবর্তী নির্বাচনের অনেক আগেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন কেন এটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হলো না। চলমান এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ডেন কেইনের মধ্যে যেকোনো একজনের ওপর চড়াও হতে পারেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউজের ভেতরের সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথের জনপ্রিয়তা বর্তমানে বেশ নিম্নমুখী। সূত্রগুলোর দাবি, ইরানে সামরিক অভিযানের প্রকৃত পরিস্থিতিকে বাড়িয়ে শুনিয়েছিলেন হেগসেথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা শুনতে পছন্দ করেন, ঠিক সেই কথাগুলোই বলতেই তিনি বেশি পটু—এমন গুঞ্জনও রয়েছে হোয়াইট হাউজে।
নেতানিয়াহুর চাপ ও সম্ভাব্য হামলা: এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এবার ইরানে একটি স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র ও সর্বাত্মক হামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে, তবে সেই যুদ্ধ কবে ও কীভাবে শেষ হবে—তা ওয়াশিংটন নয়, বরং তেহরানই নির্ধারণ করবে।
যদিও একদিকে কঠোর সামরিক প্রস্তুতির গুঞ্জন চলছে, অন্যদিকে এক জনসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে ইরানের সঙ্গে তাদের চলমান উত্তেজনার অবসান খুব শিগগিরই হতে পারে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ জমছে