
ইসরায়েলের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটাতে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী দলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে বড় ধরনের রাজনৈতিক সাহসিকতা ও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি জোটের শীর্ষ আইনপ্রণেতা আহমেদ টিবি। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আইজেনকোটের নেতৃত্বে একটি নতুন সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে তাকে বাইরে থেকে নিঃশর্ত সমর্থন দিতে ফিলিস্তিনি দলগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আহমেদ টিবি ১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেন। সে সময় তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আইজাক রাবিন ফিলিস্তিনি দলগুলোর বাহ্যিক সমর্থনে সফলভাবে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করেছিলেন। সেই উদাহরণ টেনে টিবি বলেন, ইসরায়েলকে চরম রাজনৈতিক সংকট ও উগ্রপন্থার হাত থেকে বাঁচাতে আইজেনকোটেরও একই ধরনের সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নির্বাচনী সমীকরণ ও ফিলিস্তিনি দলগুলোর অবস্থান: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইসরায়েলি জাতীয় নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী জোট ও দলগুলো স্মরণকালের ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। এবার তারা পার্লামেন্টে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলশ্রুতিতে, ফিলিস্তিনি দলগুলোর সরাসরি বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া বর্তমানে নেতানিয়াহু বা প্রধান বিরোধী দল—কারোর পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের আসন সংখ্যা আগের ৬৪টি থেকে একধাক্কায় কমে মাত্র ৫৩টিতে নেমে এসেছে, যা তাঁর ক্ষমতাসীন থাকার পথকে কার্যত রুদ্ধ করে দিয়েছে।
জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব প্রত্যাখান: ফিলিস্তিনিদের এই অভূতপূর্ব নির্বাচনী সাফল্যকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে আহমেদ টিবি যেকোনো ধরণের ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রধান লক্ষ্যই হলো তাঁদের সুসংগঠিত ভোটাধিকারকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুর পতন নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।