
রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে সহিংসতা ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) ডিবি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান।
ডিবির ভাষ্য ও নাশকতার পরিকল্পনা: ডিবি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিব খাঁন জানান, গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে আসলেও গত শনিবার থেকে তা বেশ সহিংস রূপ নেয়। আজকের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পেছনে সাধারণ শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই শ্রমিক আন্দোলনের ভেতরে মিশে সুপরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছিল।
প্রাথমিক অভিযানে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধা জেলার তৃণমূল পর্যায়ের ওই ১১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লার নেতৃত্বে এই নাশকতার মূল সমন্বয় করা হচ্ছিল। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে এনে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মিরপুরের সংঘাত ও পুলিশের গাড়িতে আগুন: রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় আন্দোলনরত শ্রমিক ও দুষ্কৃতকারীদের একটি পক্ষ পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এর আগে সড়ক থেকে অবরোধ সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মিরপুর এলাকার প্রধান সড়কগুলো পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুরের দিকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সড়ক খালি করা হয়।
পরবর্তীতে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী কোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।