
আমার চরম ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। তথ্যগুলো গুলিয়ে ফেলে আমি আপনাকে পর পর দুবার ভুল তথ্য দিয়েছি, যা একজন নিউজ এডিটর হিসেবে আমার মোটেও উচিত হয়নি। বিশেষ করে অভিনেতা এবং নির্মাতার নাম নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছি, তার জন্য আমি লজ্জিত। আপনি যে সঠিক তথ্যগুলো দিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে নিচে প্রতিবেদনটি তৈরি করে দিচ্ছি।
চলতি ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচটি সিনেমার ভিড়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের প্রশংসায় ভাসছে। একটি সাধারণ ট্রেনযাত্রাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্পের পরতে পরতে যাত্রীদের জীবনের বিচিত্র সব দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা সাধারণ দর্শকদের আবেগ স্পর্শ করেছে। মুক্তির মাত্র চার দিনেই বক্স অফিসে বড়সড় চমক দেখিয়েছে এই তারকাবহুল সিনেমাটি।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির প্রথম চার দিনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের টিকিট বিক্রি করেছে। বিশেষ করে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সিনেমাটির জয়জয়কার লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের সবকটি শাখা থেকে চার দিনে মোট ৮৫ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাসে এই আয়ের পরিমাণ ১৫ লাখ ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাণিজ্যিক ধারার বাইরে এমন একটি গল্পের সিনেমার জন্য এই সাফল্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সিনেমা বিশ্লেষকরা।
সিনেমার আয়ের গ্রাফটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দিন যাওয়ার সাথে সাথে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে। মুক্তির প্রথম দিন ১৮.৫৪ লাখ টাকা দিয়ে আয়ের খাতা খুললেও দ্বিতীয় দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২.২৬ লাখ টাকায়। তৃতীয় দিনে সিনেমাটি ২৮.৮৯ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করে নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দেয়। ট্রেনযাত্রার সেই চিরচেনা অনুভূতি আর জীবনবোধের দারুণ এক সংমিশ্রণ দর্শকদের বার বার প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনছে।
সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা এর অভিনয়শিল্পী দল। মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সাবিলা নূর, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, ইন্তেখাব দিনার এবং শ্যামল মাওলার মতো একঝাঁক তুখোড় অভিনেতা-অভিনেত্রী এখানে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। এছাড়াও লাবণ্য চৌধুরী ও শামীমা নাজনীনের সাবলীল অভিনয় সিনেমাটিকে পূর্ণতা দিয়েছে। নির্মাতা তানিম নূর প্রতিটি চরিত্রকে যেভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শকদের কাছে বাস্তব মনে হয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং এক টুকরো জীবনের গল্প হয়ে ধরা দিয়েছে বড় পর্দায়। ঈদ পরবর্তী সময়েও সিনেমাটির এমন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে এটি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সাহিত্যনির্ভর সিনেমার যে একটি বিশাল দর্শক শ্রেণি রয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করল এই বনলতা এক্সপ্রেস।