
রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (৩০) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে। ঘটনার রাতে ছোট ভাইতুল্য বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে উত্তরার একটি বারে যাওয়া, প্রেমিকাকে পৌঁছে দেওয়া এবং পরবর্তীতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার মাদক কেনাবেচার স্থানে যাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো তাহসিফের বন্ধু দীপকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে নৌ পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার রাতের বিবরণ: পিবিআই ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ, তার প্রেমিকা এবং বন্ধু দীপ উত্তরার একটি বারে যান। বারের সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে নিজের মোটরসাইকেলে প্রেমিকাকে নিয়ে এবং দীপকে পৃথক মোটরসাইকেলে পৌঁছাতে দেখা যায়। বার থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ তার প্রেমিকাকে নিজের বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর তাহসিফ ও দীপ পুনরায় বের হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় যান।
তদন্তকারীরা জানান, ওই এলাকায় পুলিশ দেখে স্থানীয় খুচরা মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাহসিফও পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছিল—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বারবার বৈপরিত্যপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় তাহসিফের পানিতে পড়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়। নিহত তাহসিফের শরীরে বাহ্যিক কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন না থাকায় মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে এখন ভিসেরা ও ভিসেট রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।
পরিবার ও 'রাওয়া'-র প্রতিক্রিয়া: তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বন্ধু দীপের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দীপ প্রথমে আমাদের বলেছিল, সে তাহসিফকে বাসার কম্পাউন্ডে নামিয়ে দিয়ে গেছে। অথচ পিবিআইয়ের তদন্তে স্বীকার করেছে তারা দুজনে টঙ্গীতে গিয়েছিল। দীপের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ।” তিনি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
এদিকে সাবেক সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তাদের কল্যাণ সংস্থা ‘রাওয়া’ নিহত তাহসিফের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির নেতারা জানান, তারা তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছেন এবং পরিবারের পাশে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করবেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া তাহসিফের মৃত্যুটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যার অংশ—তা রিমান্ডে দীপকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই পরিষ্কার হবে বলে আশা করছে নৌ পুলিশ