
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। জাহাজ চলাচলের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৩ থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
তবে ১ নভেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট চালু করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানান।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, জাহাজ চলাচলের আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে ১ নভেম্বর দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও সেদিন জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট এবং সুগন্ধা পয়েন্টের দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভা শেষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ার ভিত্তিতেই জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের নির্ধারিত শর্তের কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে তিনটি জাহাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও সাতটি জাহাজের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো ইতোমধ্যে চলাচলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ বছর থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও জাহাজ চলাচলের আগে আরও কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব কার্যক্রম শেষ করতে ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানান বাহাদুর।
মতবিনিময় সভায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি, পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।