
দীর্ঘ দেড় যুগ পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে ফিরে এলো এক অনন্য জৌলুস। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত হলো বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট। ১৮ বছরের দীর্ঘ বিরতি ভেঙে এমন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে কেবল বিজয় দিবস উপলক্ষে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রদর্শনীর চল থাকলেও এবার স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে প্যারেড গ্রাউন্ড যেন ফিরে পায় তার চিরচেনা রূপ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উৎসবমুখর পরিবেশে সুসজ্জিত মোটরশোভাযাত্রাসহ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ। জাতীয় সংগীতের সুরে আকাশ-বাতাস মুখরিত হওয়ার পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন মঞ্চ থেকে সম্মিলিত বাহিনীর মার্চপাস্টের সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজের এই রাজকীয় পরিবেশ উপস্থিত হাজারো দর্শককে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল ১০ হাজার ফুট ওপর থেকে জাতীয় পতাকাসহ ২৬ জন প্যারাট্রুপারের প্যারেড গ্রাউন্ডে অবতরণ। এরপর আকাশপথে আর্মি অ্যাভিয়েশন, বিজিবি, র্যাব ও নেভাল অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টারগুলোর গর্জনে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ফ্লাইপাস্টের এই নয়নাভিরাম দৃশ্য ছাড়াও প্যারেড গ্রাউন্ডে যান্ত্রিক বহরে ট্যাংক, কামান ও অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী করা হয়। সবশেষে বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ‘অ্যারোবেটিক শো’ দর্শকদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করে।
ভিআইপি গ্যালারিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন উপভোগ করেন তার কন্যা জাইমা রহমান। এছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক নেতারা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন। প্যারেড গ্রাউন্ডের ভেতরে ও বাইরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার দর্শনার্থীর হাতে ও মাথায় শোভা পাচ্ছিল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। দীর্ঘ ১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে এমন মহিমান্বিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংহতি ও ঐতিহ্যের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।