
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য বড় এক স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশসহ মোট ছয়টি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের দাবি নাকচ করে দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। বরং অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নিয়মিত তেহরানের সাথে যোগাযোগ রাখছে। এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও ইরান তাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু মনে করে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করছে। এই বিশেষ তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। ইতিমধ্যে ভারতের কয়েকটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর ফলে বাংলাদেশের পতাকাবাহী বা বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখন বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে এই রুট ব্যবহার করতে পারবে।
তবে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য নমনীয় হলেও শত্রু দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা যাদের ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করে, তাদের কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের সুযোগ পাবে না। বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই জলপথের ওপর ইরান পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এখন কার্যত তেহরানের কৌশলগত কবজায়।
শিপিং বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য বলছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে ১২০টির বেশি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে এখন তা হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে। এই স্থবিরতার মাঝে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইরানের এই বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দেশের অবস্থানকে অনেকটা নিরাপদ করবে এবং সম্ভাব্য সংকট থেকে সুরক্ষা দেবে।