
ইসরাইলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বুথফেরত বিভিন্ন সমীক্ষা (Exit Polls)। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—কারো রাজনৈতিক জোটই ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইসরাইলের প্রধান কয়েকটি সম্প্রচারমাধ্যমের বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন 'ইয়াশার' দল এবং বিরোধী ‘চেঞ্জ ব্লক’ প্রায় ৫১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ’ এবং তার চরম ডানপন্থি ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স মিত্রদের জোটও সমান ৫১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি পৃথক সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে দেশটির দুই প্রধান আরব রাজনৈতিক দল। ধারণা করা হচ্ছে, আরব দলগুলো রেকর্ড ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রেকর্ড পরিমাণ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৭.৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে সেনাবাহিনী ও প্রবাসী প্রায় ৬ লাখের বেশি ভোটারের ভোট গণনা শেষ হতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়ার সুযোগ থাকা দলপ্রধানকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা, লেবানন ও ইরানে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, বিচারবিভাগীয় সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচনকে ইতিহাসপ্রসিদ্ধ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।