
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। ঢাকা অভিমুখী 'সৌহার্দ্য পরিবহন' নামের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে ছিটকে সরাসরি গভীর পানিতে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীর প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে, যা উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল দীর্ঘ চেষ্টার পর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাসটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে মাত্র ৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পথে আরও অনেক যাত্রী তুলেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন আরোহী ছিলেন।
উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা' দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে নদীর তীব্র স্রোত আর পানির গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নদীর পাড়ে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও সময় গড়ানোর সাথে সাথে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।