
অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার স্পেনসার জনসন পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) তুলনায় কম পারিশ্রমিক সত্ত্বেও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে (আইপিএল) বেছে নিয়েছেন। আর্থিক দিক থেকে পিএসএলের কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের সাথে তাঁর চুক্তি ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ২ লাখ ডলার)। অন্যদিকে আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের সাথে তাঁর চুক্তির অঙ্ক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার)। অর্থাৎ সরাসরি তুলনায় আইপিএলে প্রায় ৪০ হাজার ডলার কম পাচ্ছেন এই অজি পেসার।
প্রাথমিকভাবে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস জনসনকে দলে নিলেও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানিয়েছিল যে পুরো মৌসুমের জন্য তাঁকে পাওয়া যাবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত। এর কিছুদিনের মধ্যেই চেন্নাই সুপার কিংস তাঁকে দলে ভেড়ায়। ইনজুরিতে পড়া নাথান এলিসের বদলি হিসেবে স্পেনসার জনসনকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। নাথান এলিসের মূল চুক্তির অঙ্ক ২ লাখ ১৫ হাজার ডলার হলেও জনসনকে নেওয়া হয়েছে তুলনামূলক কম মূল্যে।
স্পেনসার জনসনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল অর্থ নয় বরং ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। আইপিএলের মতো বিশাল গ্ল্যামারাস মঞ্চে পারফর্ম করতে পারলে জাতীয় দলে ফেরার পথ যেমন সুগম হয় তেমনি বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নজরে আসা সহজ হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে স্পেনসারের কাছে টাকার চেয়ে আইপিএলের এক্সপোজার বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে জনসন পুরো মৌসুমে খেলবেন কি না তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সাধারণত আংশিক সময়ের জন্য ক্রিকেটারদের দলে নিলে চুক্তির অঙ্ক মূল খেলোয়াড়ের চেয়ে কম হয়। স্পেনসারের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আইপিএলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই প্রবণতা আধুনিক ক্রিকেটে অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যেই ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে।