
মস্কো ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক 'কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ট্রিটি' বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রশমনে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরান সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে বাকায়েই জানান, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি ছাড়াও বর্তমান জটিল ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে ল্যাভরভ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।
সফর প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ল্যাভরভ নিজেই জানিয়েছেন যে, ২০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক চুক্তিটির পূর্ণ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তাঁর এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের কোনো বৈশ্বিক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার পূর্ব নির্ধারিত চুক্তি ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে কড়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া দুই দেশ রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মস্কোতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০ বছর মেয়াদী 'সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি'তে স্বাক্ষর করেছিলেন। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিবহন খাতের প্রসারে এই চুক্তিটি এক নতুন মাত্রার সূচনা করে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিদিন বিশ্ব বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হলেও বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর জবাবে আবার ইরানের বিভিন্ন বন্দর ঘিরে নৌপথের অবরোধ জোরালো করেছে ওয়াশিংটন।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ল্যাভরভের চলমান ইরান সফরে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হবে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বেআইনি সামরিক হামলা এবং তার ফলে সৃষ্ট তীব্র বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার বাস্তবসম্মত উপায় খুঁজে বের করা। রাশিয়ার কূটনৈতিক মহল মনে করে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুধু নিকটপ্রাচ্য বা মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও এক চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।