
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডলারের মান এবং তেলের দাম কমে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে যার ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী বুধবার ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার স্বর্ণের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যাওয়ার পর এটিই প্রথম বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা জেপি মরগান জানিয়েছে যে ডলারের মান কমে যাওয়ায় স্বর্ণ কেনা এখন সাশ্রয়ী হচ্ছে এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্বর্ণের বাজার আরও চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা ষষ্ঠবারের মতো স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে যে গত ১০ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২২ শতাংশ কমে যাওয়ার প্রভাব এখনও দেশের বাজারে বিদ্যমান রয়েছে যার ফলে এই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ১৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৯০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৬১৬ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায়। টানা ছয় দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ২৮ হাজার ৯৮৫ টাকা কমল যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রুপা প্ল্যাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।