
ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাস থেকে ধারে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজের চেনা রূপ ও গোল করার অবিশ্বাস্য সক্ষমতা দেখিয়ে চলেছেন জোনাথন ডেভিড। কানাডার এই তারকা স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্ব যেমন নতুন করে মুগ্ধ, তেমনি তাঁর খেলায় ভীষণ সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে নিজেদের ডেরায় রেখে দেওয়ার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। এই ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে চিরতরে নিজেদের করে নিতে আগামী মৌসুমে ২৫ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত অর্থ খরচ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছে না মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
স্প্যানিশ নামী ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম রেলেভোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুম শেষে ধারের মেয়াদ পূর্ণ হলে জোনাথন ডেভিডকে স্থায়ীভাবে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় আতলেতিকো। জুভেন্টাসের সঙ্গে চুক্তির শর্তেই খেলোয়াড়টিকে পাকা পাকা কিনে নেওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ বা রিলিজ ক্লজ যুক্ত ছিল। সেই চুক্তি বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছে স্প্যানিশ ক্লাবটি এবং চুক্তি অনুযায়ী ডেভিডকে পাকাপাকিভাবে পেতে প্রয়োজন হবে ২৫ মিলিয়ন ইউরো। আতলেতিকো বোর্ড ইতিমধ্যেই তাঁদের আগামী মৌসুমের জন্য নির্ধারিত ট্রান্সফার বাজেটে এই অর্থ বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
স্পেনে আসার পর থেকেই লা লিগায় দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড। নতুন ক্লাবে মানিয়ে নিতে তাঁর বিন্দুমাত্র সময় লাগেনি। লা লিগায় নিজের প্রথম চার ম্যাচেই তিনি প্রতিপক্ষের জালে ৩টি গোল জমা করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২টি গোল। অর্থাৎ, স্পেনে পা রাখার পর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই সরাসরি গোল করে বা গোল করিয়ে দলের জয়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে চলেছেন এই তারকা।
অথচ ইতালির মাটিতে জুভেন্টাসের হয়ে জোনাথন ডেভিডের বিগত মৌসুমটি মোটেও স্মরণীয় ছিল না। সিরি ‘আ’-তে ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে নিজের প্রথম পাঁচটি গোলে অবদান রাখতে তাঁকে দীর্ঘ ১৯টি ম্যাচ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পুরো মৌসুমেও তিনি কেবল ৬টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করতে সমর্থ হন। জুভেন্টাসের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় মাত্র এক মৌসুম পরেই তাঁকে অন্য ক্লাবে ধারে পাঠাতে রাজি হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
তবে আতলেতিকো মাদ্রিদে এসে অভিজ্ঞ ডাগআউট মাস্টার ও কোচ দিয়েগো সিমিওনের পূর্ণ আস্থা দ্রুতই জয় করে নিয়েছেন এই কানাডিয়ান স্ট্রাইকার। সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা, গোল করা এবং প্রয়োজনে দলের রক্ষণে নেমে প্রতিপক্ষকে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মানসিকতা নজর কেড়েছে কোচের। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের পর ডিয়েগো সিমিওনে প্রকাশ্যে ডেভিডের প্রশংসা করে জানান, গত কয়েক মৌসুমে দলের আক্রমণে যে ধরনের বৈচিত্র্য ও প্রকৃত স্ট্রাইকারের অভাব ছিল, ডেভিড তাঁর সামর্থ্য দিয়ে সেই ঘাটতি চমৎকারভাবে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।