
ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে হওয়া ভয়াবহ বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের এই কঠিন সময়ে তারা সব ধরনের জরুরি মানবিক ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং তেহরানের সঙ্গে তাদের গভীর মিত্রতার বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তেহরানে চালানো সেই বিধ্বংসী হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন কেবল শোক প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং দ্রুততার সঙ্গে ত্রাণ সামগ্রী, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চীনের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা কেবল মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখছেন না, বরং একে ভূ-রাজনৈতিক দাবার ছকে এক বড় চাল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও চীনের এই দ্রুত সাড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের নানা চাপের মুখে বেইজিংয়ের এই সংহতি তাদের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, চীন বারবার জোর দিয়ে বলছে যে যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তারা এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং একই সঙ্গে বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় চীন এখন আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায়। তেহরানের এই মানবিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা সংকটের সময় কেবল দর্শক হয়ে থাকবে না। চীনের এই অগ্রণী ভূমিকা আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বেইজিংয়ের এই বিশাল সহায়তার ঘোষণা মাঠ পর্যায়ে কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তা ইরানের চলমান সংকট কাটাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে।