
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রভাবে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ, ২০২৬) মূল্যবান এই ধাতুর দাম কিছুটা কমেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৫,১৬৭.১৫ ডলারে নেমেছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারে এপ্রিল ডেলিভারির স্বর্ণের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে ৫,১৭৩.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের সাম্প্রতিক শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডলারের মান বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে এর চাহিদা কিছুটা কমে যায়। এছাড়া, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেড) সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে। এই আশঙ্কাই মূলত বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের মজুত কমানোর পেছনে কাজ করছে।
তবে স্বর্ণের দামে এই পতনকে বড় কোনো ধস হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven) হিসেবে স্বর্ণের আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনো সংকটের সময়ে স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে নিজেদের পোর্টফোলিওতে রেখে দিচ্ছেন। ফলে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের অবস্থান শক্তিশালী থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।